Picbear logo Browse Instagram content with Picbear

@re_z_wan

re z wan

re_z_wan

রোববারের কমিউনিস্ট!! ⚓👮life of a sailor🚢⚓ INFJ

  • 2K Total Likes
  • 128 Tot. Comments
২২ আগস্ট ২০১৮। বাংলাদেশ তখন গরু কোরবানি নিয়ে ব্যাস্ত। ঈদের আমেজ সেখানে। আর আমি তখন আমার জাহাজ নিয়ে প্রশান্ত মহাসাগর পাড়ি দিচ্ছি। জাহাজে আমরা দুইজন মাত্র বাঙালি। ঈদের দিন যে আজ তা আমরা দুজন ছাড়া আর কেউ জানেনা জাহাজের। সকালে সেকেন্ড ইঞ্জিনিয়ার এসে বললো Main Deck এ কিছু রিপেয়ারিং এর কাজ আছে। আজকে দিনের মধ্যে শেষ করতে হবে। ওয়েদার রিপোর্টে বলা আছে বিকেলে ঝড় আসবে। তখন Deck এ নামা রিস্কি। সারা দিন পুরো ইঞ্জিন ডিপার্টমেন্ট Deck এ কাজ করলাম। আগে থেকেই প্ল্যান ছিলো জাহাজের স্যাটেলাইট ফোন থেকে তিনটা নাম্বারে আজ কল দিবো। ডিনার শেষ করে ব্রীজে চলে গেলাম ক্যাপ্টেনের কাছে। জাহাজে ডিনার টাইম বিকেল ৫.৩০ মিনিট। ততক্ষনে ঝড় শুরু হয়ে গেছে সাগরে। কোন কিছু ধরা ছাড়া দাঁড়িয়ে থাকা যায়না এরকম ঝড়ে। নাহলে ছিটকে ফেলে দেয়। প্রথম দুইটা নাম্বারে কথা বললাম। তারপর তৃতীয় যে নাম্বারটাতে কল
আমার প্রথম জাহাজের ঘটনা। জাপান থেকে আমার জাহাজ তাইওয়ান যাচ্ছিলো সে সময়। সাগর প্রচন্ড উত্তাল। কোম্পানির নির্দেশে আসার পথে বেশ কয়েকবার নোঙ্গর ও করেছিলাম আমরা ছোট ছোট দ্বীপের পাশে। জাহাজ ১৫/২০ ডিগ্রি করে টানা কয়েক দিন দুলছে। রোলিং-পিচিং। যা খাচ্ছি মুহূর্তেই বমি করে বের করে দিতে হচ্ছে সবার। ১২ অক্টোবর ২০১৭, জাহাজের ক্যাপ্টেন একটা ডিস্ট্রেস সিগনাল কোড করে সেদিন ভোরে। আমাদের আশে পাশেই একটা ফিশিং বোট ডুবে গেছে। মোট ছয় জন ক্রু ছিলো তাতে। ব্রেকফাস্টের পর থেকেই ক্যাপ্টেন সার্চ এন্ড রেসকিউ অপারেশন শুরু করে দিয়েছে। চীফ অফিসার, বোসান আর ডেক ক্যাডেট ফরওয়ার্ডে, আমি আর আমার এক ব্যাচমেট পোর্ট সাইডে, দুইজন এ.বি স্টারবোর্ড সাইডে, ফিটার আর চীফ কুক আফ্টে, ব্রীজ উইং এ অন্যান্য ডেক ক্রু রা। ব্রীজে চীফ ইঞ্জিনিয়ার, ক্যাপ্টেন, থার্ড অফিসার। যে রুটে ফিসিং বোট টা ডুবেছিলো
ঊনষাট বছর বয়েসী চীফ ইঞ্জিনিয়ার রেজওয়ান তাঁর চব্বিশতম জাহাজ MV Shao Shan 5 এ সেইল করছেন এখন। জাহাজের ক্যাপ্টেন তারই কোর্স মেট ক্যাপ্টেন গালিব। MV Shao Shan 5 জাপানের হিরোসীমা থেকে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশ্যে সেইল করেছে আজ প্রায় পাঁচ দিন হতে চললো। ১৪.৫ নটিক্যাল মাইল পার আওয়ার স্পীডে চলন্ত MV Shao Shan 5 এখন প্রশান্ত মহাসাগর এর প্রায় সাড়ে সাতশ নটিক্যাল মাইল ভিতরে। প্রশান্ত মহাসাগর এর এই অঞ্চলটা একটি রিমোট এড়িয়া। এই অঞ্চল দিয়ে কোন জাহাজ সচরাচর সেইল করেনা। জাপান থেকে যখন অস্ট্রেলিয়া যাবার ভয়েজ প্ল্যান আসলো জাহাজে, তখন ক্যপ্টেন গালিব চাইলেই অন্য সহজ এবং কাছের কোন পথে ভয়েজ রূট প্ল্যান সেট করতে পারতেন। তা নিয়ে জাহাজের অন্য ক্রু দের মন খারাপ। কিন্তু চীফ ইঞ্জিনিয়ার রেজওয়ান খুব গম্ভীর সময় কাটাচ্ছেন এখন। চীফ এর চোখে এখন অপেক্ষা...এই অপেক্ষা কিসের তা কেউ খেয়াল করেনি জাহাজের। . . ২ জানুয়ারি
অমলকান্তি রোদ্দুর হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু রোদ্দুর হতে পারেননি। তিনি এখন একটা অন্ধকার ছাপাখানায় কাজ করেন। ইমতিয়াজ সাহেব আপনি কি হতে চেয়েছিলেন জীবনে? . স্যার, আমি হতে চেয়েছিলাম বৃষ্টি। টুপটুপ বৃষ্টি হয়ে পুকুরে মিলিয়ে যেতে চেয়েছিলাম। . সে কি! আপনি তো দেখছি অমলাকান্তির চেয়েও বড় কাঙাল। বলুন শুনি আপনার গল্প। . কাজলা দিদি জ্যৈষ্ঠের দুপুরে গ্রামের পুকুরে গোসল করার জন্য নামত। জানেন স্যার একদিন হঠাৎ পুকুরের মাঝখানে কাজলা দিদির মরা শরীরটা যখন ভেসে উঠল তখনও বৃষ্টি হচ্ছিল। . তারপর? গল্পটা এখানেই শেষ করবেননা প্লিজ। . গল্পটা এখানেই শেষ হতে পারতো স্যার যদিনা কলেজের প্রথম দিন মোহসেনাকে আমার ছাতাটা দিয়ে আমি ভিজে ভিজে না যেতাম বাড়িতে। . বেশ তো, বৃষ্টি আপনার জীবনে প্রেমও নিয়ে এলো। তা সে এখন কোথায়? . হয়তো গ্রামের কোন যৌথ পরিবারের গৃহবধু হয়ে দিন পার করছে। . ওহ! আমি দুঃখিত। . না
খুব লিখতে ইচ্ছে করছে তোকে। চাইলেই তো এখন আর রওনাগলে যাওয়া যায়না বা প্রেস ক্লাবে রবির দোকানে অথবা মুখার্জি ঘাটে। তাই এখন রাতে ঘুমাবার আগে নিয়ম করে লিখি। একটা ২২৫ মিটার জাহাজে আমার জন্য সব আছে। জিমনেসিয়াম, ইনডোর, রিক্রিয়েশন, লাইব্রেরি-সব যা যা দরকার। এই যে শব্দটা লিখলাম "দরকার" এটা নিয়েই তো আমাদের সব হিসেব গুলো ছিলো। একদিন রওনাগলে গেলাম ছবি তুলতে। যেতে যেতে হঠাৎ সেখানে একদিন গল্প বলে ফেললি। কাজ শুরু করে দিলাম। The Sunday Filmmakers প্রোডাকশন এর প্রথম মুভি। কাজটা বাকী রেখেই আমাকে চলে আসতে হলো। তুই ভেবে দেখবি নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার জন্যে আমার যা কিছু দরকার ছিলো তাকে না করে দিয়ে- আমার আশেপাশের মানুষগুলোকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য আমাকে চলে আসতে হলো। এই যে শব্দটা তখন লিখেছিলাম "দরকার" খুব সেল্ফিশ একটা শব্দ। আব্বু আম্মুকে যখন ভিডিও কল দিচ্ছি, আমার কেবিন-জাহাজ-চারপাশ দেখাচ্ছি
পৃথিবীর প্রায় সমস্ত মানুষ দুটো শ্রেনীতে বিভক্ত। প্রথম শ্রেনী যারা সময়কে বিক্রি করে আর দ্বিতীয় শ্রেনী যারা সময় কিনে রাখে। আমি আমার সময়কে বিক্রি করে উপার্জন করি। দেখতে দেখতে দিন শেষ হয়ে মাস পেড়িয়ে যায় আমার। আমি একটা জাহাজে চড়ে এক দেশ থেকে আরেক দেশে কার্গো ক্যারি করি। দিনের পর দিন, মাসের পর মাস আমার নেটওয়ার্ক বারে ক্রস চিহ্ন উঠে থাকে। আমি জানতে পারিনা আমার বাসার সবাই কেমন আছে, আমার বন্ধুরা কেমন আছে, আমার সবচেয়ে প্রিয় মানুষটা কিভাবে দিন গুলো কাটাচ্ছে। জাহাজে আমার সাথে ইলেক্ট্রিক ইঞ্জিনিয়ারের ভালো সম্পর্ক হয়ে যায় কিভাবে যেন। এর আগের জাহাজেও তাই হয়েছে। জয়েন করার পর ইলেক্ট্রিক ইঞ্জিনিয়ার আমার বয়েস জানতে চাইলো। আমি বললাম চব্বিশ। পয়ত্রিশ বছর বয়সী ইলেক্ট্রিক ইঞ্জিনিয়ার তার থাম্ব ফিংগার উচু করে আমাকে বললো "গোল্ডেন এইজ"। আমি হেসে ফেললাম। আমার জীবনের সোনালী
রওনাগলের একটা বাসায় নেইমার বড় হচ্ছে। একটু বড় হওয়ার পর সেই ক্ষুদে নেইমারকে বলা হয় ফুটবল খেলে কিসসু হবেনা। ছেলেটা ফুটবলটা রেখে দিয়ে হাজারী ও নাগের ক্যামেস্ট্রি বই খুলে বসে থাকে। . . ছবিটি চাঁদপুর এর রওনাগল এলাকা থেকে তোলা।
চাঁদপুর জায়গাটার সাথে আপনি পুরো বিশ্বটাকে কানেক্ট করতে পারবেন। রওনাগলে বসে আপনি যখন চা খাচ্ছেন মনে হবে এই চায়ের সাথে যে বাতাসটা আপনি ফ্রি পাচ্ছেন সেটা এই মাত্র আফ্রিকান কোন একটা ফোক বা আইরিশ ফোক মিউজিকের একটা টোন। আবার যেই মুহূর্তে আপনি প্রেস ক্লাবে এসে রবির দোকান থেকে এক কাপ চা খাবেন, আশপাশ থেকে অসংখ্য ফিলোসোফারের কথা শুনতে পাবেন যারা সারাদিন মানুষের গল্প বলে। প্রেস ক্লাব থেকে বের হয়ে আপনি মুখার্জি ঘাট যান, সেখানে একটা ছেলে গিটার নিয়ে বসে আছে, "পাড়ায় ঢুকলে ঠ্যাং খোঁড়া করে দিবো, বলেছে পাড়ার দাদারা..."। মুখার্জি ঘাটের দিকে না গিয়ে যদি আপনি কালিবাড়ির দিকে যান একবার, অন্তত একবার হলেও নাজিরা বিল্ডিং ঘুরে আসেন। আপনি যেই গল্পটার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন বা আপানার যেই গল্পটা এখনো মানুষকে বলা হয়নি ঠিক সেই গল্পটাই নাজিরা বিল্ডিং এ এডিট করা হচ্ছে। আপনি যখন চাঁদপুর
একটা সঠিক সময়ের জন্য অপেক্ষা নাকি একটা সঠিক সুযোগ? আবার কেউ কেউ বলছে সঠিক সময় বলতে কিছু নেই, সঠিক সুযোগ কখনো আসেনা। ঠিক এই মুহুর্তে যদি নক করি বলটাকে তাহলে এই মুহূর্তটাই সঠিক সময়, এই মুহূর্তটাই সঠিক সুযোগ। প্রচন্ড অন্ধকারে মাঝে মাঝে আমার চোখ জ্বালাপোড়া করে। সঠিক সময়-সঠিক সুযোগ- নক অফ।
যেদিন রাতে বাবা আর মায়ের বিয়ে হবার কথা ছিলো সেদিন মায়ের চাচা মারা যায়। যেহেতু নানা ভাই ছিলোনা, তাই বাড়ির মুরুব্বী মারা যাওয়ায় নানু বলেদিলেন,"এরকম একটা দিনে আমি আমার মেয়েকে বিয়ে দিবোনা। আল্লাহ চাইলে আমার মেয়ের পরে কখনো বিয়ে হবে নাহলে হবেনা।" বাবা এই সিদ্ধান্ত মেনে নিলেন। ঠিক চার দিন পর বাবা আর মায়ের বিয়ে হয়। বিয়ের রাতে মা যখন বাবার বাসায় আসলেন দেখলেন এক রুমের একটা বাসা। সে রুমে একটা বিছানা, বাবার আর্কিট্যাকচারের ড্রয়িং টেবিল, আর কিছু বাসন পত্র। একদম শূন্য থেকে বাবা আর মায়ের সংসার শুরু। একটু একটু করে বাবা আর মায়ের সংসারে সব এলো। আমরা দুই ভাই বড় হলাম। চাঁদপুরে আমাদের নিজস্ব একটা বাসা এখন। বাবা মায়ের মাঝখানের এই জার্নিটা আমার অনেকটা দেখা। মিডেল ক্লাসে আপনি যা চাইবেন তা একটু দেরীতে হলেও পাবেন আবার প্রয়োজনের তুলনায় অধিক বিলাসীতার ব্যাপারগুলোও আপনার মাঝে
চায়ের দোকানে যখন হঠাৎ করে বৃষ্টি নেমে যায়, আট-দশ জন অফিস গোয়িং লোক বৃষ্টির মাকে....বাবাকে.... কিন্তু অনিমেষ চুপ করে বসে থাকে। বা হাতে চায়ের কাপ, ডান হাতে সিগারেট। অনিমেষের হাতে অঢেল সময়। তাড়া নেই কোন। অনিমেষ চায়ের দোকানে বসে বসে বৃষ্টি গোনে...এক, দুই, তিন, চার.....ঊণষাট, ষাট....হঠাৎ অনিমেষের চোখ আটকে যায় চায়ের দোকানের ঠিক বিপরীতে জনতা ফার্মেসী নামক অষুধের দোকানে দাঁড়িয়ে থাকা একটা মেয়ের খোলা পিঠে। মেয়েটার চুল পেছনে খোপা করা। হঠাৎ নেমে আসা ঝুম বৃষ্টিতে মেয়েটির চুল থেকে ঘাম আর বৃষ্টির পানি দুটো একসাথে চুইয়ে চুইয়ে পড়ছে। এর ফলে পিঠের দিকটায় ব্লাউজ ভিজে এক রকম মানচিত্রের মত হয়ে গেছে। অনিমেষ মেয়েটাকে চিনে। দ্বীপা। অনিমেষের পুরোনো প্রেমিকা। পাঁচ বছর আগে কলেজের শেষ দিনে দ্বীপা অনিমেষের অনুরোধে স্লিভলেস ব্লাউজ পড়ে ফেয়ার ওয়েলে এসেছিলো। আজকাল দ্বীপা ফুল হাতা মিড
বয়োঃসন্ধি কালে আমি যখন প্রথম কোন মেয়েকে স্পর্শ করি সেটা হচ্ছে ক্লাস সেভেনে একজন জনৈক সিনিয়র মেয়ের সাথে হ্যান্ড শেক করা। সেই হ্যান্ড শেকের পর আমি পুরো এক মাস কারো সাথে আমার হাত মিলাই নি। সেই কয়েক সেকেন্ডের হ্যান্ড শেকের যে একটা রেশ আমার মধ্যে দিনের পর দিন জেগে ছিলো আমি সেটাকে প্রেম বলি। ক্লাস সেভেনের প্রেম। . . আবার যখন কলেজ লাইফে অনেকটা ঢাক ঢোল পিটিয়ে আমার মধ্যে প্রেম এসেছিলো সে প্রেমে একটা নেশা কাজ করতো। প্রতিদিন ইনবক্সে আর সেন্ট বক্সে প্রায় দুশো-আড়াইশো ম্যাসেজ জমা হতো। সেটা ছিলো একটা প্রেম। . . একাডেমী তে যখন আবার প্রেম আসে সেই প্রেম কিছুটা আধ্যাত্মিক হয়ে যায়। একজন ক্যাডেট গেমস টাইমে বাস্কেট বল গ্রাউন্ড ছেড়ে লুকিয়ে ক্লাস রুমে গিয়ে সাত-আট পৃষ্ঠার চিঠি লিখে পাঠায় জনৈক মেডিকেল হোস্টেলে। সেটা একটা প্রেম ছিলো। . . এই বয়সে এসে প্রেম আবার ঘুমিয়ে যায়। কোন এক
রওনাগল।। পুরান বাজার।। চাঁদপুর।।
আমার ছোট খালামনি তার বাবাকে মানে আমার নানা ভাইকে দেখেনি। নানুর গর্ভে যখন ছোট খালামনি ছয় মাসের একটা ভ্রুন, তখন নানা ভাই মারা যায়। ছোট খালামনি প্রায় রাতে একটা স্বপ্ন দেখে, "একটা লোক রেল লাইনে পাথর কুড়াচ্ছে, কিন্তু তার চেহারা কখনো দেখা যায়না।" খালামনি এই স্বপ্নটা খুব ছোট বেলা থেকে দেখে আসছে। সে স্বপ্নের মধ্যে অনেক চেষ্টা করে রেললাইনে পাথর কুড়ানো সেই লোকটাকে দেখতে। কিন্তু খালামনি লোকটার চেহারা কখনো দেখেনা। কারন, স্বপ্নে অপরিচিত চেহারা কখনো দেখা যায়না। নানা ভাই এর কোন ছবি নেই আমার নানু বাসায়। বাবা ছাড়া যেসব সন্তানেরা বড় হয়, তাদের কাছে বাবার কোন ছবি লাগেনা। আমার মা, তিন খালামনি, এক মামা বাবার আদর ছাড়াই বড় হয়েছে। মা তখন ক্লাস থ্রী তে যখন নানা ভাই মারা যায়। জীবনের প্রতিটা স্টেপ এ তারা বাবার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে। একজন বাবা থাকলে জীবনটা অনেক সহজ হয়ে যায়। . . ছবিটি
খুব ছোটবেলায় রেজওয়ান মুখার্জি ঘাট এলাকায় থাকতো। প্রতিদিন সন্ধ্যায় বাবা অফিস থেকে ফিরলে বাবার সাথে ফায়ার সার্ভিসের একটা পরিত্যাক্ত জাহাজের ডেকে গিয়ে খেলতো। বাবা নিজ থেকে কিছু বলেনা কখনো। বাবাকে যখন জিজ্ঞাসা করা হতো বাবা একের পর এক সব বলে দিতো- কখনো স্ট্রাগলের কথা, কখনো মূসা নবীর কথা, কখনো শহরের কথা, কখনো মানুষের কথা। সেই রেজওয়ান একদিন ফায়ার সার্ভিসের পরিত্যাক্ত জাহাজ ছেড়ে মার্চেন্ট জাহাজে যাবে। বাবা তখনো কিছু বলবেনা রেজওয়ান কে। রেজওয়ান তার বাবাকে প্রতিদিন চিনছে। প্রতিদিন সন্ধ্যায় ফায়ার সার্ভিসের জাহাজে দুষ্টামি করে আসার পথে মোহাম্মদের দোকান থেকে একটা ইকোনো ডি এক্স কলম কিনে আনতো রেজওয়ান। রাতের বেলা টেবিলের এক পাশে বাবা আর্কিট্যাকচারের কাজ করতো আর অন্য পাশে রেজওয়ান খাতায় আঁকিবুঁকি করতো। বাবাকে সেই আঁকিবুঁকি দেখালে বাবা Very Good বলতো। রেজওয়ান এখন
YWCA তে যখন পড়তাম আমার একটা বন্ধু ছিলো "স্বাক্ষর" নামে। স্বাক্ষর একটু হাবলু টাইপের ছিলো। তো স্বাক্ষর একদিন আমাদের বাসায় আসে আমার সাথে খেলতে। স্বাক্ষরের খালামনির বিয়ে হয়েছিলো তখন। তো আমার আম্মু স্বাক্ষর কে ডেকে জিজ্ঞাসা করলো- . . : স্বাক্ষর তোমার আঙ্কেল কি করে? . . : আন্টি, আমার আঙ্কেল তো অনেক কিছু করে। আমার খালামনিকে আদর করে, ক্ষুদা লাগলে খাইয়ে দেয়। . . (আম্মু আমার দিকে, আমি আম্মুর দিকে তাকিয়ে, ত্রিশ সেকেন্ড হাসলুম)
লঞ্চের তৃতীয় শ্রেনীর ক্যান্টিনে একটা মার্লবোরো এডভান্স শেষ করে প্রথম শ্রেনীর কামড়ায় ঢুকছিলাম। ঠিক সেই মুহূর্তে একজন কে দেখে খুব পরিচিত মনে হলো। সাগর। আমার স্কুল লাইফের ক্লাস মেট। এস.এস.সি এর পর পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে সাগর। তারপর থেকে স্ট্রাগ্লিং শুরু তার। আমি খুব সিলেক্টিভ মানুষের সাথে আড্ডা দেই। কিন্তু আমি যাদের সাথে ওঠা বসা করিনা, বা যাদের সাথে আমি যোগাযোগ করিনা তাদের সবাইকে আমি ফলো করি। তাদের সবার ফেইসবুক প্রোফাইল আমি নিয়মিত চেক করি। সাগর এস.এস.সি এর পর বিয়ে করে। আমি যখন ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে, সাগর তখন বাবা হয়ে যায়। সাগরের মেয়েটার বয়স এখন ছয় বছর। আমার ওয়ালেটে টাকা আসলে আমি তখন সেটা নিজের জন্যই খরচ করি। আর আমার বন্ধু সাগর তার সামান্য স্যালারীর টাকা দিয়ে মাসের শেষ বৃহস্পতিবারে মেয়ের জন্য একটা খেলনা কিনে তারপর বাসায় ঢুকে। আমার ওয়ালেটে টাকা বেশী থাকায়
তো আপনার যখন চব্বিশ-পঁচিশ বছর বয়স এবং আপনি একটা মফস্বলে থাকেন, প্রায়শই আপনাকে আপনার ছোট বেলার বান্ধবীদের মুখোমুখি পড়তে হবে। আপনার ছোট বেলার বান্ধবীরা তাদের সাড়ে তিন বছরের বাচ্চাকে আপানার সাথে এভাবে পরিচয় করিয়ে দিবে, "আম্মু সালাম দাও। এটা তোমার একটা মামা।" . . ছবিটি চাঁদপুর এর পুরান বাজার এলাকা থেকে তোলা।

Loading