Picbear logo Browse Instagram content with Picbear

@re_z_wan

re z wan

re_z_wan

রোববারের কমিউনিস্ট!! ⚓👮life of a sailor🚢⚓ INFJ

  • 3K Total Likes
  • 128 Tot. Comments
আমরা কয়েকজন হতভম্ব আর্টিস্টম্যান দশ মিনিটের জন্য পৃথিবীর রাজা হয়ে যাই। তারপর ঘোর কেটে গেলে, নেশা ছেড়ে দিলে, মাটিতে বসে ঝিমোই। কিচ্ছু হবেনা।
এটা আমার ডায়েরির অসংখ্যতম একাকী বিকেল আমি যখন তোমাকে লিখছি। একটা পুরোনো ধাধা আমার ভূল সূর্যাস্তে উকি দিয়ে বলে যায়ঃ যার নাম ভালোবাসা তাতে প্রেম কতখানি? আমি খানিক চুপশে যাই,  তারপর চোখ বন্ধ করে তোমার ভেজা চুলের গন্ধ নেই, আমার অবাক লাগেনা আমি আজো খুঁজে পাই কতটুকু ভালোবাসায় প্রেম কতখানি।
চিরকুটের সুমি আপার কন্ঠে "যাদুর শহর" বেজে চলছে, একটি হেডফোনে দু'জন মানুষের কান- শুক্লা আর রঞ্জু-রেলের তৃতীয় শ্রেনীর একটি কোচে পাশাপাশি বসে, যাদুর শহরের যাদু শেষ, হেড ফোনে সুমি আপার গান শেষ, এতক্ষনে দূরপাল্লার ট্রেন শহর ছেড়ে অনেক দূর। অজানা গন্তব্যে, নতুন যাদুর শহরে। হারাবে বলে শুক্লা আর রঞ্জু নাম লিখিয়েছে গদ্যের খাতায়।
আমার রুম থেকে ঠিক পাঁচ হাজার ছিয়াশি কিলোমিটার দূরে আরেকটা শহরের মানুষের সকালের ঘুম ভাঙে বোমার আওয়াজে, মেশিন গানের শব্দে, কখনো কান্নার আওয়াজে। আমি রোজ সকাল বেলা বেশ আরাম করে ঘুমাই, তারপর আমার রুমে সকালের নাস্তা দিয়ে যাওয়া হয়, আমি ইউটিউবে ওস্তাদ বিসমিল্লাহ আলি খানের সানাই শুনি আর চা খাই, তারপর আমার একটা সকাল শুরু হয়। আমার রুম থেকে ঠিক পাঁচ হাজার ছিয়াশি কিলোমিটার দূরের আরেকটি ধ্বংশস্তুপের শহরে রেজওয়ান নামের আরেকটি ছেলে বোমার ভয়কে উপেক্ষা করে গিটারে তখনও গান গাচ্ছে, " How many deaths will it take till he knows, That too many people have died?...."
ঠিক সাড়ে তিন বছর বয়সে আমাকে একটা ছোট বক্সের মধ্যে ঢুকিয়ে দেয়া হয়। আমি বাইশ বছর বয়স পর্যন্ত সেই বক্সে আটকে থাকি। বক্স থেকে যখন বের হই তখন হঠাৎ মনে হলো আমার জীবনের বাইশ বছর শেষ হয়ে গেলো। এইরকম একটা বক্সে আমাদের সবাইকে ঢুকিয়ে দেয়া হয় একদম ছোট বয়সে। আমরা বাইশ/তেইশ/চব্বিশ বছর বয়সে এই বক্স থেকে মুক্তি পাই। তারপর আমাদের কেউ কেউ ইঞ্জিনিয়ার, ডাক্তার, বিজনেস এক্সিকিউটিভ হয়ে যায়। আমাকে যখন আমার বাবা ঠিক সাড়ে তিন বছর বয়সে একটা বক্সে ঢুকিয়ে দিলেন, আমার বক্সে বাবা অসংখ্য জানালা, দরজা তৈরী করে দিলেন এবং আমার বক্সের ছাদ সব সময় খোলা ছিলো। একারনে খুব সম্ভবত আমি এখন পর্যন্ত যান্ত্রিক হয়ে উঠিনি। আমি গাড়ির ধোয়ার মধ্যে, জাহাজের হেভী ফুয়েলে, ইন্ডাস্ট্রি এর বর্জ্যে কেন যেন শহুরে গল্প-কবিতা খুঁজি সারাক্ষন। বাবা এ পর্যন্ত প্রায় আড়াই হাজার বক্সের ডিজাইন করে ফেলেছেন। আমার বাবা
দাদু যখন মারা যায় আমার বাবা তখন চট্টগ্রামে ট্রেনিং এ। বাবা খুব সফ্ট হার্টেড মানুষ। বাবাকে জানানো হলোনা যে দাদু মারা গিয়েছে। বাবার সাথে থাকা এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার কে ফোন করে বলে দেয়া হলো বাবা যেন ট্রেনিং শেষ করে চাঁদপুর না এসে দেশের বাড়িতে চলে যায়। দাদুকে শেষ দেখা দেখতে পারেনি বাবা। . . নানু যখন মারা যায় আমি চট্টগ্রামে আমার ট্রেনিং এ। একদিন পর আমাকে জানানো হলো নানু আর নেই। আমি চারদিনের ছুটি নিয়ে চাঁদপুর চলে আসি। নানুকে শেষ দেখা দেখতে পারিনি। চাঁদপুর এসে একটা নতুন কবর দেখতে পেলাম শুধু। . . খুব কাছের মানুষদের মৃত মুখ না দেখাই ভালো। আমার বাবা এখন তার মায়ের একটা সুস্থ স্বাভাবিক ছবি মনে ধারন করে বেচে আছে। আমি আমার নানুর একটা জ্যান্ত সুস্থ স্বাভাবিক ছবি চোখ বন্ধ করলেই দেখতে পাই।
শেফালি আর রউফের প্রেম সেই ছোট বেলা থেকে। জেলে পাড়ার দুজন কিশোর কিশোরী একজন আরেকজনকে দেখে ভিশন লজ্জা পেতো। তখন ডিসেম্বরের পুরোদস্তর শীতে চাঁদপুরের বিজয় মেলা শুরু হয়। একদিন রউফের সাথে শেফালি বিজয় মেলায় গেলো। রউফ খুব খুশীতে শেফালিকে অনেক কিছু কিনে দিলো। চুলের ফিতা, জরি, লিপস্টিক অনেক কিছু। শেফালি শুধু লজ্জাই পাচ্ছিলো। হঠাৎ সে মুখ ফুটে বলে দিলো, "এইবার আপনের জালে অনেক মাছ উঠছে তাইনা?" রউফ মুখ ফসকে বলে দিলো, "তোরে বিয়া করুম। রাজি থাকলে তর বাপের লগে কথা কই?" রউফ আর শেফালির এখন একটা ছোট্ট মেয়ে আছে ঊষা নামের। রউফ এখনো মেঘনায় জাল ফেলে। আজ নয় দিন পর রউফ বাড়ি ফিরলো। ঊষা তখন উঠোনে খেলছে।মাছ ধরার জালটা রোদে শুকোতে দিয়ে রউফ তার স্ত্রী শেফালী কে নিয়ে ঘরের দরজাটা আটকে দিলো। . . ছবিটি চাঁদপুর এর পুরান বাজার এলাকা থেকে তোলা।
তো কাল সকালে জেলে মাছ ধরতে মহাজনের নৌকা নিয়ে মেঘনার গভীরে চলে যাবে। অথচ কালই জেলের ছোট মেয়েটা প্রথম স্কুলে যাবে। জেলে তার ছোট মেয়েটাকে স্কুলে যেতে দেখবে অনেক। কিন্তু এই যে বাবার হাত ধরে প্রথম স্কুলে যাবার দিনটা কখনোই জেলে পরিবারে আসবেনা। দুইশো টাকা দিয়ে একটা পরিবার কতদিন চলতে পারে? জেলে কাল সকালে যখন নৌকা নিয়ে বের হবে, তখন তার বৌ এর হাতে একশত টাকার দুইটা নোট দিয়ে যাবে। জেলে এবং তার বৌ দুই জনই জানে এই দুইশত টাকা দিয়ে ৫/৬ দিন চলা সম্ভব না। তারপরেও বৌ হাসি মুখে জেলেকে বিদায় দেয়, "সাবধানে থাইকো।" . . ছবিটি চাঁদপুর এর ইসলামপুর এলাকা থেকে তোলা।
আমাদের সবার নিজস্ব একটা ফ্যান্টাসি আছে। পার্সোনালিটি ভেদে এই ফ্যান্টাসি ভ্যারি করে। আমরা যেই জেনারেশনটা বিলং করি, আমাদের ফ্যান্টাসি অন্য রকম ছিলো স্কুল লাইফে। আমার মনে আছে প্রথম আমি ডিকশেনারি কিনি একদম প্রাইমারী তে থাকতে। তারপর একদিন লুকিয়ে লুকিয়ে পড়ার টেবিলের কোনায় ডিকশেনারিতে Sex শব্দের মানে খুঁজি। Sex শব্দের মানে "লিঙ্গ" দেখে নিজে নিজে মনে হলো এই পৃথিবীর কোন লুকোনো জিনিস এই বুঝি আবিষ্কার করে ফেললাম। তারপর স্কুলের বন্ধুদের বললাম। দেখলাম আমিই পিছিয়ে আছি ওদের চেয়ে। ওরা শুধু Sex না এই ধরনের অন্য অনেক ইংরেজী শব্দের মানে ওরা ততদিনে লুকিয়ে লুকিয়ে বের করে ফেলেছে। এটা ছিলো একটা ফ্যান্টাসি। আবার হাই স্কুলের ফ্যান্টাসি একটু অন্যরকম ছিলো। পত্রিকার দোকান থেকে ২০ টাকা দামের একটা বই কিনে পত্রিকার মধ্যে তা লুকিয়ে ক্লাস রুমে নিয়ে আসাটা আরেকটা ফ্যান্টাসি। আমি
তো একদিন হঠাৎ করে আমি আপনাকে জিজ্ঞেস করে বসবো যে, প্রথম কোন বাঙালী চা পান করেন। আমি জানি উত্তরটা আপনার জানা নেই তাই আমি আমার শার্টের কলারটা একটু উঁচু করে নিলাম। আপনার সাথে একটু ভাব মারার চেষ্টা করাতেই আপনি উত্তরটা দিয়ে দিলেন, "শ্রীজ্ঞান অতীশ দীপঙ্কর।" আমি শার্টের কলারটা নামিয়ে একটা শুকনো হাসি দিয়ে আপনার কাছে হার মেনে নিলাম। এই চা জিনিসটা কেমন জানেন? রবিঠাকুরের কথা বলি। রবিঠাকুর  মৃত্যুর আগে শেষ চা এর সাথে একটু কফি খেয়েছিলেন। তাও মৃত্যুর দুই দিন আগে। ৪ আগস্ট কবি একটু কফি খান। তারপর ৭ আগস্ট মারা যান। মাঝখানের টাইম পিরিয়ডে কিছুই খান নি। বুদ্ধদেব বসু একদিন সন্ধ্যায় চা খাচ্ছিলেন। তার কিছুক্ষন পরই স্ট্রোক করে তিনি মারা যান। খুব জটিল একটা বিষয় নিয়ে কথা হচ্ছে আড্ডায়। এক কাপ চা খেলাম, মুহূর্তেই আমার বন্ধু গার্ল ফ্রেন্ডের আম্মুকে কল দিয়ে জানিয়ে দেয়, আন্টি আমি
১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ এর বিকেলে আলী যাকের স্যার একটা রেডিও কাধে নিয়ে যাত্রাবাড়ি রোড দিয়ে হেটে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ রেডিওতে শুনতে পেলেন পাকিস্তান আত্বসমর্পন করছে। বাংলাদেশ স্বাধীন। আলী যাকের স্যার খুশীতে মাটিতে শুয়ে গেলেন। একটা স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে শোয়ার স্বাধটা যে স্বাধীনতা হতে পারে সেটা এই গল্পটি শোনার আগে কখনো বুঝিনি। ক্ষুদিরাম যে স্বাধীনতার কথা বলে গিয়েছিলেন সেই স্বাধীনতার কথা এখন আমরা বলিনা। আমরা একটা ভিন্ন টোনে স্বাধীনতার কথা বলি। বড় শহর গুলোতে একটু বেশী স্বাধীনতা, মফস্বলে একটু কম, গ্রামে আরো কম। অথচ "এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম....." কথাটা যিনি বলেছিলেন তিনিও একটা মফস্বল থেকে উঠে এসেছিলেন। আমরা এখন সবাই পরাধীন। এটা সরকারের রুল করার একটা প্রসেস। চালের দাম প্রতি মাসেই যদি বাড়তে থাকে আমরা কখনো এটা নিয়ে কোন আন্দোলন করবোনা। পরাধীন
সুখ, একটা অসুখের নাম। এ অসুখের সংজ্ঞায়ন পৃথিবীর খুব কম মানুষই জানেন। একটা অন্ধকার রুমে পাঁচশত টাকা অথবা একশত টাকার নোটের মধ্যকার পার্থক্য যেমন সংজ্ঞায়ন করা যায়না ঠিক তেমনি সুখ কেও কেউ কোন দিন সংজ্ঞায়িত করতে পারেনি। সুখ অনেকটা জলজ, যখন যে পাত্রে রাখা হয় তার আকার ধারণ করে। পার্থক্যটা শুধু চোখে, পাত্রের আকার নিয়ে কোন চোখ কিভাবে সন্তুষ্ট। অনেক প্রশ্নের মাঝেও আমি আপাতত সুখে আছি। একটা নেভী সিগারেটের প্যাকেটে গোল্ডলিফ রাখাকে আপনি সুখ হিসেবে দেখতে পারেন অথবা অসুখ হিসেবেও দেখতে পারেন। ধরেন আপনি একটা গোল্ডলিফের স্টিক কিন্তু দোকানদার আপনাকে নেভী সিগারেটের প্যাকেটে ঢুকিয়ে দিলো। আল্টিমেটলি আপনার ডেস্টিনেশন একজন স্মোকারের ঠোঁটে। তো আপনি এখন গোল্ডলিফ সিগারেট হওয়া সত্তেও নেভী সিগারেটের প্যাকেটে পড়ে আছেন এটা নিয়ে মন খারাপ করার কিছু নাই। ডেস্টিনেশনে
আমি যখন খুব ছোট ছিলাম আমাদের বাসায় একটা ক্যাসেট প্ল্যায়ার ছিলো। ক্যাসেট রাখার জন্য অনেক বড় একটা নীল রঙের ক্যাসেট হোল্ডার ছিলো। প্রতি ঈদে নতুন নতুন গানের ক্যাসেট কিনতো আম্মু। এল.আর.বি, প্রমিথিউস, আর্ক, নগর বাউল, তপন চৌধুরী, সুবীর নন্দী, শুভ্র দেব, এন্ড্রু কিশোর, সামিনা ইয়াসমিন ওনাদের নতুন নতুন গানের ক্যাসেট কিনা হতো। আমি সারাদিন বাসায় খেলতাম আর মা কখনো ক্যাসেট প্ল্যায়ারে গান ছেড়ে দিতো অথবা নিজেই নিজেই গাইতো। আমার মা একটা সময় গুন গুন করে সারাদিন গান গাইতো। আমি পাশের রুম থেকে শুনতাম। তারপর মা কোন একটা গানের লিরিক্স এ ভূল করে ফেললে আমি পাশের রুম থেকে ভূল ধরিয়ে দিতাম। ক্যাসেট প্ল্যায়ারের পর আমাদের বাসায় সিডি প্ল্যায়ার আনা হলো। আমি মা এর পছন্দের গান ছাড়াও আমার পছন্দেরও কিছু গান সিডি প্ল্যায়ারে বাজাতাম। তারপর একটা সময় আমাদের বাসায় ডেস্কটপ আনা হলো। সিডি
বাঙালি বলতেই কেমন যেন একটা কলকাতা কলকাতা ঘ্রান চলে আসে চারপাশে। আমাদের প্রায়ই কলকাতা যেতে ইচ্ছে হয়। কলকাতা তো এখন চাইলেই যাওয়া যায়না। তাই আমরা কলকাতার ঘ্রান পেতে পুরান বাজার যাই। চাঁদপুর এর সাথে কলকাতার অনেক মিল আছে। বলা হয়ে থাকে চাঁদপুর সরকারি কলেজ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় এর আদলে বানানো। আবার এই পুরান বাজারের ঘাটেই কলকাতা থেকে আসা ট্রলার-নৌকা গুলো এসে ভিড়তো। কলকাতার বাঙালি বাবু দের সাথে চাঁদপুর এর মানুষদের সব ব্যাবসায়ীক কাজ-কর্ম এই পুরান বাজারেই হত। সেই প্রভাবে ধীরে ধীরে পুরান বাজার এলাকাটা কলকাতার মত হয়ে গেলো। আমি যেকোন নতুন জায়গায় গেলে ওই এলাকার মানুষ কি গান শুনে সেটা খোঁজার চেষ্টা করি। চায়ের দোকানে কি গান বাজছে সেটা শুনি। পুরান বাজারে কখনো জেমস, এল.আর.বি, ওয়ারফেইজের গান বাজেনা। এখানকার মানুষ ক্লাসিকাল গান শুনে। একটা ছোট্ট কলকাতা আমার এই শহরে।
স্ট্র‍্যান্ড রোড থেকে আমার স্কুল আল আমিন একাডেমীতে যেতে আগে তিন টাকা রিকশা ভাড়া লাগতো। তখন আমি ক্লাস টু তে। তারপর চারটাকা, পাঁচ টাকা, ছয়টাকা, তারপর দশটাকা। দশ টাকা রিকশা ভাড়া দিয়ে যখন আমি স্কুলে যেতাম তখন আমি ক্লাস ট্যান শেষ করেছি প্রায়। আমি যখন বিকেল বেলা ডাকাতিয়ার পাড়ে খেলতে যেতাম প্রায়ই সাঈদ নামের এক ছেলেকে দেখতাম। সাঈদ আমাদের চেয়ে অনেক বড়। আমাদের কয়েকজনের কৌতুহল ছিলো সাঈদ কেন একটা মাত্র শার্ট পড়ে প্রতিদিন নদীর পাড়ে এসে বসে থাকে। এ প্রশ্নের উত্তর বোঝার জন্য যতটা বড় হওয়া দরকার ছিলো আমরা ততটা বড় তখন ছিলাম না। এখন আমি বেশ বড় হয়ে গেছি। মাঝে মাঝে এখন যখন আমি সাঈদ কে দেখি, প্রতিবার একটা নতুন শার্ট আমি তাকে পড়তে দেখি। আবার, স্কুলে থাকতে আমাদের এলাকার জাহাঙ্গির আঙ্কেল কে দেখতাম একটা ঢিলেঢালা হাফশার্ট পড়তে। আমি জানিনা একটা শার্ট মানুষ কত বছর ধরে পড়তে পারে।
সোনালী মেঘের ঘুম ভাঙা ভোরে পাশ ফিরে শুয়ে দেখি শৈশব ঘুমোচ্ছে। তিন টাকার মুড়ি-মুড়কি এক টাকার বাতাসা কাগজের ঠোঙ্গায় লালারস ভিজিয়ে গরমের ছুটিতে টুনটুনে হেটে যাওয়া। মফস্বলের আধপাকা গলিতে এসব ছিলোনা, বিশ টাকা রিকশা ভাড়ায় সোজা চলে যেতে হত মায়ের অবাধ্য শৈশব ফেরি করা গ্রামের রাস্তায়। মিছে মুক্তোর খোঁজে ঝিনুকের পেটে নাভিশ্বাস নিয়ে আধ পায়ে হেটে বেড়ানো নদীর কিনারে নৌকা ঘাটে টোল দিয়ে ভেসে আসতো মফস্বলের আযান। সন্ধ্যে সাতটায় সিনদাবাদের জাহাজে বিদ্যুৎ চলে গেলে সময় থেমে গিয়ে বিলি কাটতো মাথায়, সলতের আগুনে ধোয়া হয়ে আসতো সাত ভাই চম্পা। সাত ভাই চম্পা, ডাকুলার, সাত রাজার ধন, আর কখনো কেউ শোনায়নি এসব গল্প। গরমের ছুটি শেষে অবাধ্য শৈশবে নেমে আসে ঘুম, ঘুম ভেঙ্গে উঠে দেখি শৈশব এখনো ঘুমিয়ে, এ শৈশব অনেক ক্লান্ত, ঢের কিছু বলার বাকি আছে এখনো। . . পুরান বাজার।। চাঁদপুর।।
চব্বিশ পঁচিশ বছর বয়সটা একটা কনফিউশনের বয়স। ক্লাস সিক্সে সব কিছু নিয়ে যেমন একটা কনফিউশন হতো এই বয়সেও সেইম জিনিসটা হয়। সামনে অনেক গুলো রাস্তা খোলা। পেছনে অনেক গুলো প্রেম অপেক্ষা করা। সাথে একটা ফ্যামিলি থাকা। মানিব্যাগে তখন মাস শেষে নতুন নতুন টাকা আসা। আবার মাসের শেষে একটা টানা পোড়েন বোধ করা। মাসের শুরুতে একসাথে পাঁচটা গোল্ডলিফ কেনা আবার মাসের শেষের দিকে তিনটা গোল্ডলিফের সাথে দুইটা ডার্বি যোগ হওয়া। এরকম ভাবে একটা খারাপ লাগা শুরু করে। অন্ধকার একটা রাস্তায় আপনি হেটেই যাচ্ছেন হঠাৎ চব্বিশে এসে আপনি খেয়াল করলেন আপনি একটা চার রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে। রাজপথে কখনো আপনার জন্য একটা নদী থাকবেনা। এখানে অনেক অনেক গাড়ি আর ধোয়া। রাজপথে হাটার সময় যদি আপনি একটা নদী অনুভব করেন এটা ভূল কিছুনা। এটাই একটা রুচিবোধ। চব্বিশ পঁচিশ বছর বয়েসটা অন্তত এইটুকু আপনাকে বুঝিয়ে দেয়।
ভাস্করের মত ছেলেরা যখন টিউশনি শেষ করে ডাকাতিয়ার পাড়ে এসে গিটারে অঞ্জন দত্তের গান তোলে, "তোমরা অনেক জোরে হাটো, ক্লান্ত লাগে তাল মেলাতে..." তখন সেটা একটা গল্প হয়ে যায়। একটা দীর্ঘশ্বাসের সিগারেটে প্রথম টান টা দিয়েই তারা বলে ফেলে একটা ভূল টাইম পিরিয়ডে তাদের জন্ম হয়েছে। এরা জাতিস্বর রোগে ভোগে। ঊনবিংশ শতাব্দিতে একজন কবি ছিলেন যিনি বাবরি চুলে আলতো দোলা দিয়ে জমিদার বাড়িতে রোজ গান গাইতেন, পান চিবোতেন, সুরা পান করতেন। সেই জমিদার বাড়ি ভাস্করের অনেক কাছ থেকে দেখা। সেই বাবরি চুলের কবির গানের সাথে ভাস্করের কয়েক জন্মের পরিচয়। এই পৃথিবীর কোন কিছুই ভাস্করদের ভালো লাগেনা। এদের মায়া শুধু জীবনের প্রতি। প্যান্টের পকেটে জমে থাকা সুতোর থেকে শুরু করে, পায়ের স্যান্ডেলের স্টিকার, জামার বোতাম, পুরোনো প্রেমিকার হাতের চুড়ি, বোনের কপালের টিপ, বাবার গানের ডায়েরী, প্রথম জ্যামিতি

Loading